ইনজুরির কারণে ব্রাজিল জাতীয় দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। এমনকি বিশ্বকাপ...
প্রচণ্ড
গরম আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ
পরিস্থিতির মধ্যেও সৌদি আরবে চলমান
হজ পালন করছেন লাখ
লাখ মুসল্লি। বুধবার (২৭ মে) হজের
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’ সম্পন্ন
করেন তারা। এক প্রতিবেদনে এ
তথ্য জানিয়েছে খালিজ টাইমস।
ভোর
থেকেই সৌদি আরবের পবিত্র
নগরী মক্কার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত মিনার উপত্যকায় জড়ো হন হজযাত্রীরা।
সেখানে তারা প্রতীকীভাবে শয়তানকে
লক্ষ্য করে কংক্রিটের স্তম্ভে
পাথর নিক্ষেপ করেন।
এই
আচারটি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ঘটনার স্মরণে
পালিত হয়। আল্লাহর নির্দেশে
ছেলে ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি
করা থেকে ইব্রাহিম (আ.)-কে বিরত রাখার
চেষ্টা করেছিল শয়তান। তিনটি স্থানে শয়তান তাকে প্ররোচিত করার
চেষ্টা করেছিল এবং তিনি সেখানে
শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন।
সাদা
পোশাক পরিহিত হজযাত্রীরা কয়েকদিন ধরে খোলা আকাশের
নিচে হজ পালন করছেন।
এ সময় মক্কায় আবহাওয়া
প্রচণ্ড গরম। বুধবার মক্কা
ও মিনায় তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
২০২৪ সালের হজে ৫০ ডিগ্রির
বেশি তাপমাত্রায় ১,৩০০ জনের
বেশি মানুষের মৃত্যু হওয়ার পর এবার সৌদি
কর্তৃপক্ষ তাপদাহ মোকাবিলায় ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে
বিশাল আকারের ফ্যান, পানির ফোয়ারা, শীতল মেঝে এবং
পানীয় জল বিতরণকারী ট্রাক।
এ
বছর হজে অংশ নিচ্ছেন
১৭ লাখের বেশি মানুষ, যা
২০২৫ সালের তুলনায় কিছুটা বেশি। শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও হজ
সম্পন্ন করতে পেরে আনন্দ
প্রকাশ করেছেন অনেক হজযাত্রী। ৫৮
বছর বয়সী ইরাকি হাজি আদনান হামাদ
বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে
পারছি না যে হজের
আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছি। চরম
কষ্টের মধ্যেও প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল উপভোগ্য।’ মিশরের
মারওয়া দাহচৌরি বলেন, ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের অনুভূতি
সত্যিই অনন্য। মনে হয় যেন
জান্নাতে আছি।’
মঙ্গলবার
হজযাত্রীরা আরাফাত ময়দানে অবস্থান করেন, যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)
তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।
পরে তারা আরাফাত ও
মিনার মাঝামাঝি মুযদালিফায় খোলা আকাশের নিচে
রাত কাটান এবং সেখান থেকেই
শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ
করেন। এই আনুষ্ঠানিকতার পর
হাজিরা মক্কায় ফিরে গিয়ে কাবা
শরিফ তাওয়াফ করেন। হজের শেষ দিনই
শুরু হয় ঈদুল আজহা।
মতামত দিন